সৌদি কাতার ঐতিহাসিক চুক্তি

       সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানি স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে কাতার ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সম্পর্ক। প্রায় আজ থেকে  সাড়ে তিন বছর আগে কাতারের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার ও একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরে আজ ৫ জানুয়ারি ( মঙ্গলবার ) এই অঞ্চলের দেশগুলোর নেতারা সৌদি আরবে মিলিত হয়েছেন। আজকের এই বিশেষ দিনে সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক আল-উলা শহরের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  এই সম্মেলনেই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলোর নেতারা যেমন এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ঠিক তেমনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
      সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যে প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হয়েছে । মূলত যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলোকে জোটবদ্ধ করার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে এ চেষ্টা করছে । যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ।  গতকাল ৪ জানুয়ারি ( সোমবার ) সৌদি আরব ঘোষণা দেয়, তারা কাতারের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দিবে । এর মাধ্যমে আকাশ, নৌ ও স্থলবন্দরও রয়েছে সেগুলো সহজে চলাচল করতে পারবে।
       সৌদি আরব ব্যতীত অন্য দেশ গুলো এখনো কাতারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা কথা এখনো কিছু জানায়নি। তবে জ্যারেড কুশনার বিশ্বাস রেখে বলছেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হলো, বাকি দেশগুলোও এমন পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া  কাতারও এই দেশগুলো বয়কট–সংক্রান্ত যেসব আইন পাশ করেছে তা সব কিছু  বাতিল করবে। কাতারবিরোধী ওই অবরোধ প্রত্যাহারে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেছিল সৌদি জোট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আল জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া, কাতার থেকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা। তবে সৌদি জোটের দাবি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো তুরস্কের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ে কাতার। তুরস্কও কাতারের সমর্থনে এগিয়ে আসে।
     গত কয়েক মাস থেকেই কুয়েতের পাশাপাশি সৌদি-কাতার বিরোধ নিরসনে উদ্যোগী হয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে সৌদি আরবের দিক থেকে কাতার সীমান্ত খুলে দিবে জানিয়েছে কুয়েত। আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৭ সালের পূর্বঘোষণা ছাড়াই কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর।এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে কাতারের। কিন্তু কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। সকল জল্পনা কল্পনা অবসান কাটিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে সৌদি আরবের, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন  সৌদি আরবের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন।