মোহসেন ফাখরিজাদেহ ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয় স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত মেশিনগান দিয়ে

রোববার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী ফাদাভি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, মেশিনগানটি একটি পিকআপ ট্রাকের ওপর রাখা ছিল এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। মেশিনগান থেকে শহীদ ফাখরিজাদেহ কে লক্ষ্য করে ১৩টি গুলি ছোড়া হয়। এই অভিযানের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চেহারা দেখে চিনতে পারার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। একই গাড়িতে ফাখরিজাদেহের কাছ থেকে মাত্র ২৫ সেন্টিমিটার দূরে তার স্ত্রী বসে ছিলেন। তার গায়ে কোনও আঘত  লাগেনি। গত ২৭শে নভেম্বর তেহরানের কাছে আবসার্ড শহরে কনভয়ের মধ্যে মোহসেন  ফাখরিজাদেহ একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে তার স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। সে সময় নিরাপত্তাবাহিনীর বেশ কিছু গাড়ি তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। তখন একটি গাড়িতে বুলেট লাগার শব্দ হয়। তিনি তখন কী ঘটেছে তা দেখার জন্য বের হন। তিনি গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরই একটি রিমোট কন্ট্রোলড বন্দুক থেকে গুলি ছোড়া হয়।

প্রথম থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানের শীর্ষ নেতারা ইসরায়েলকে দায়ি করে আসছেন। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ২০১৮ সালে ইরানের বিষয়ে একটি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে করা একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ফাখরিজাদেহের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া ফাখরিজাদেহকে হত্যায় ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। সে কারণেই সন্দেহের তীর এখন ইসরায়েলের দিকেই। ইরানের আবসার্দ শহরে গাড়িতে করে যাত্রা করার সময় কীভাবে এই বিজ্ঞানীকে গুলি করে হত্যা করা হল তা নিয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ নানা বিতর্কিত বিবরণ প্রকাশ করছে।হামলার দিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল যে, ফখরিযাদের দেহরক্ষীদের সাথে বেশ কয়েকজন বন্দুকধারীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়।

ইরানের একটি প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল যে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি, যাদের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তারা নিহত হন। নিসান ব্র্যান্ডের একটি পিকআপ ঘটনাস্থলে বিস্ফোরিত হয়েছিল বলেও জানানো হয়। ফখরিযাদের জানাজায় এক বক্তব্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান বলেন, অনেক দূর থেকে এই হামলা চালানো হয়েছিল, বিশেষ পদ্ধতি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। তবে তিনি এর চাইতে বেশি কোন ব্যাখ্যা দেননি। রিভল্যুশনারি গার্ডের উপ-কমান্ডার জেনারেল ফাদাভি রোববার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে বলেন যে “নিসান পিকআপের ওপর একটি মেশিনগান লাগানো ছিল, যা ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। ওই মেশিনগানটি ইনটেলিজেন্ট স্যাটেলাইট সিস্টেম অর্থাৎ উপগ্রহ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। যেটা ফখরিযাদের ওপর জুম ইন করে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, মেশিনগানটি ফখরিযাদের মুখের দিকে এমনভাবে টার্গেট করেছিল যে তার স্ত্রী মাত্র ২৫ সেন্টিমিটার (১০ ইঞ্চি) দূরে থাকা সত্ত্বেও, তিনি গুলিবিদ্ধ হননি।জেনারেল পুনরায় উল্লেখ করেন যে, “ঘটনাস্থলে কোনও মানব হামলাকারী উপস্থি ত ছিল না। ওই ঘটনায় ফখরিযাদের নিরাপত্তা প্রধানের মাথায় চারটি গুলি লাগে। কারণ তিনি বিজ্ঞানীকে বাঁচাতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, এই হত্যার প্রতিশোধ নেবেন বলে অঙ্গীকার করেন এবং এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের চূড়ান্ত শাস্তি দাবি করেন। শুক্রবার, ইসরায়েলের পাবলিক রেডিওতে জানানো হয় যে, ইসরায়েলের কয়েকজন সাবেক পরমাণু বিজ্ঞানীদের দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সাবধান থাকার ব্যাপারে সতর্ক করেছে।

ওই বিশেষজ্ঞরা ডিমোনার একটি পরমাণু চুল্লিতে কাজ করতেন। ওই চুল্লিটি নেগেভ মরুভূমির ভেতরে অত্যন্ত গোপন একটি পরমাণু প্রকল্প। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলেছে। ইরান ইস্যুতে ঝুঁকির মুখে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন সতর্ক বার্তা দেয়ার পরদিনই ওই প্রতিবেদনটি সামনে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.