মুজিব ভাস্কর্যটি স্থাপনার কাজ  প্রায় শেষ, কিন্তু এ নিয়ে নানা তর্ক বির্তক ও সমালোচনা 

মুজিব ভাস্কর্য নিয়ে ইসলামীপন্থী সংগঠন সমালোচনা করেই যাচ্ছে। মুজিব ভাস্কর্যটি স্থাপনের বিরুদ্ধে আজ  শুক্রবার (৪-১২-২০২০) আবারো দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বেশ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি মূর্তি বলে ঘোষণা দিয়েছেন।   দেশের আলেম সমাজ এবং বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই বারবার বলেছেন, যে মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। এ ধর্মের বিধিবিধানে ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ির সুযোগ নেই। নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্ক করতে, নিষেধ করা হয়েছে ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিতে। কিন্তু কোনো কোনো ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন যে বাংলাদেশের স্থপতির ভাস্কর্য টেনেহিঁচড়ে নামাবেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন।
তিনি এটুকুই বলেছেন যে, বিষয়টা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।ইসলাম চর্চার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে সবাই বিরত থাকি। ধর্মকে রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহার না করি। পুলিশ সতর্ক বার্তা জানিয়েছে যে অনুমতি ছাড়া কোনও প্রকার বিক্ষোভ সমাবেশ করতে দেয়া হবেনা। যে ভাস্কর্য নিয়ে এতো বিতর্ক সেই ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ কতদূর !

ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে মাওয়ার পথে কয়েক মিনিট গাড়ি চালিয়ে গেলে চোখে পড়বে উঁচু গোলাকার মঞ্চের মতো বেশ বড় একটি জায়গা কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। যে কাঠামোটি কাপড়ে ঢাকা তার উচ্চতা তিন- চার তলার মতো। ভেতরে ঠিক কি রয়েছে তা রাস্তা থেকে বোঝা মুশকিল।

ঢাকার দক্ষিণে ধোলাইপাড় মোড়ে এই ভাস্কর্যটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অংশ। ভাস্কর্যটি চীনে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এটির স্থাপনার কাজ প্রায় শেষের পথে। প্রকল্পের পরিচালক সবুজ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, এমাসেই এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

তিনি জানান, “১৬ই ডিসেম্বরের আগেই এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টি বোর্ড থেকে একটা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন হলে তারপর এটি উন্মোচন করা হবে।”

তিনি বলেন, ভাস্কর্যটি তৈরি করতে প্রায় নয় কোটি টাকা খরচ হয়েছে। চীন থেকে ইতিমধ্যেই ভাস্কর্যটি দেশে পৌঁছানোর পর ধোলাইপাড় মোড়ে এটি স্থাপন করার কাজ প্রায় শেষের পথে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী”। ভাস্কর্যটির  আকার আকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তর্থ্য এখন পর্যন্তও জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.