বৃহস্পতিবার নাট্য অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষের বিয়ে, বাগদান সম্পন্ন

গত সোমবার চট্টগ্রামে হয়ে গেল তাঁদের বাগদান। অপর্ণার বাগদান অনুষ্ঠানে ছিলেন পরিচালক শাফায়েত মনসুর ও অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তাঁরাই ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে অপর্ণার বাগদানের খবরটা প্রথমে জানান। জানা গেছে, পাত্র সত্রাজিৎ দত্ত পেশায় একজন প্রকৌশলী; পড়াশোনা করেছে জাপানে। তারা দু’জনেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দা।

তিনি পেশায় একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ার। জাপানের এয়ারবাসে কর্মরত আছে বলে জানান অপর্ণা ঘোষ। বিয়ে উপলক্ষে তিনি রবিবার জাপান থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। অপর্ণা বলেন, আমাদের এক বন্ধুর মাধ্যমে করোনাকালে ওর সঙ্গে পরিচয়। কথা বলতে বলতে একসময় ভালো লাগা তৈরি হয়। এরপর আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। একটা পর্যায়ে আমরা জানতে পারি, ওর বাবা আর আমার বাবা ভালো বন্ধু। তারপর দুই পরিবার পারিবারিকভাবে মিলে আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।’ আগামী ১০ ডিসেম্বর বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপর্ণা জানালেন, আগামী মে মাসে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তখন বিনোদন অঙ্গনের বন্ধু-সহকর্মীসহ সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানালেন তিনি। ভালো লাগার মানুষ সত্রাজিৎ দত্তকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে যাচ্ছেন বলে আনন্দিত অপর্ণা ঘোষ। পারিবারিকভাবেই অপর্ণা ঘোষের বিয়ে হতে যাচ্ছে। এতে দুই পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানালেন তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা দেওয়ার আগে অপর্ণা সবার কাছে আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

সত্রাজিৎ বললেন, আমাদের নতুন জীবন শুরু হতে যাচ্ছে। সবাই আমাদের জন্য  প্রার্থনা করবেন। অপর্ণার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কেটেছে চট্টগ্রামে। স্কুলের পাট চুকে গেলেই নাটকের দল নান্দিকারের সঙ্গে যুক্ত হন। বাবার হাতে গড়া দলের মহড়া প্রায়ই নিজেদের বাসায় হতো। বাবার সঙ্গে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটের মঞ্চেও যাওয়া-আসা করতেন। ২০০৩ সালে অপর্ণা প্রথম মঞ্চ অভিনয়ে নাম লেখান। এস এম সোলায়মানের ‘কোর্ট মার্শাল’ ছিল অপর্ণা অভিনীত প্রথম নাটক। এ নাটকে অভিনয় করতে দলের সবার সঙ্গে যেতে হয় চাঁদপুর। সেখানকার শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে প্রথম নাটকের অভিনয় করেন।

২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে মিডিয়ায় পা রাখেন চট্টগ্রামের রাঙামাটির মেয়ে অপর্ণা ঘোষ। প্রতিযোগিতার সেরা চারে থেকে টিভি নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পথচলা শুরু করেন তিনি। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্র, টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। কাজ করেছেন চলচ্চিত্রেও। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘মৃত্তিকা মায়া’, ‘মেঘমল্লার’, ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘ভুবন মাঝি’, ‘গণ্ডি’ চলচ্চিত্রগুলোয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.