বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ঢুকতে দিচ্ছে চীন

           করোনাভাইরাসের উৎস  অনুসন্ধানের তদন্তকাজ পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বনামধন্য একদল বিজ্ঞানীকে চীনে পাঠাতে চেয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রথমে সাফ না করে দিলেও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে এক পর্যায়ে তাদের দেশে প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার কথা জানায় বেইজিং। তবে চাপের মুখে অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তাদের ভিসা অনুমোদন দেয়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারছে না ডব্লিউএইচও-এর বিশেষজ্ঞ টিম। এ ঘটনায় খুবই হতাশ হয়েছেন ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। একই সঙ্গে তিনি চীনকে ডব্লিউএইচওর দলটিকে সে দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।  গতকাল  মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্য দ্য গার্ডিয়ান।
       তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানান, বিশেষজ্ঞ দলের দুই সদস্য উহানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার পর তাদের বলা হয়, চীনা কর্মকর্তারা তাদের দেশটিতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেননি।এ সংবাদে তিনি খুবই হতাশ।তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, আমি চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আবারও পরিষ্কার করেছি যে, এই মিশনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক টিমের জন্য একটি অগ্রাধিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অনেক দিন ধরেই চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে এ তদন্তের অনুমতি চেয়ে এসেছে। তবে প্রথম দিকে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত ডব্লিউএইচও-এর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় বেইজিং। এরপরই গত ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনার উৎপত্তিস্থল নির্ধারণে তদন্তের ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই তদন্তের জন্য চীনের উহান শহরে যাবে ১০ জন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীর একটি দল।  কিন্তু এখন তারা ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলটিকে দেশে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না।
        বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলকে চীনের উহানে পাঠাতে ডব্লিউএইচও বেশ কয়েক মাস ধরে প্রবল চেষ্টা চালিয়ে আসছে । তারা এ নিয়ে গত বছরের জুলাইন মাস থেকে চীনের ঊর্ধ্বতন  কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আসছে । কিন্তু চীন এখন  এ ধরনের তদন্তের ব্যাপারে উপেক্ষা  করে  আসছে । বিজ্ঞানীরা তাদের  জানিয়েছে ,আমাদের  তদন্তের উদ্দেশ্য ঠিক অপরাধী খুঁজে বের করা নয়।বরং  ভাইরাসটি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে উৎপত্তি হলো,  তা মানুষের মধ্যে কিভাবে  ছড়াল-এসব জেনে ভবিষ্যতে  এ ধরনের  সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজে  বের করা।
         ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান নামক শহরে  প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণটি চিহ্নিত হয়। ক্রমেই মহামারি আকারে তার সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ভাইরাসকে চীনা ভাইরাস হিসেবেও অভিহিত করেছেন। এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে বেইজিং-এর।এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৮ কোটি আক্রান্ত ও ১৮ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।