বাংলাদেশেও নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্তের মিল পাওয়া গেছে

   বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, করোনাভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইন বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে, যেটির সাথে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সাদৃশ্য রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা ১৭টি নতুন জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে ৫টিতে নতুন ধরনের ওই করোনাভাইরাসের স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান বিবিসি বাংলাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর জানানো হয়। করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে একে একে ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি ও তুরস্ক। যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনটি আগের স্ট্রেইনটির তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায় বলে জানানো হয়েছে। করোনার নতুন এই ধরনের সংক্রমণে বিশ্বে উদ্বেগ বেড়েছে। নতুন ধরন ঠেকাতে টিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে গবেষকেরা প্রাথমিকভাবে বলছেন, করোনার নতুন ধরন প্রতিরোধেও টিকা কার্যকর।

ড. খান বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ যে সিকোয়েন্স করা হয়েছে, তাতে ভাইরাসটির দুটি স্পাইকে প্রোটিন মিউটেশন পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত নতুন ভাইরাসটির স্ট্রেইনে যে বৈশিষ্ট্য আছে, তার সাথে বাংলাদেশে পাওয়া ভাইরাসটির পুরোপুরি মিল না থাকলেও অনেকটাই মিল রয়েছে। বিসিএসআইআর-এর এই বিজ্ঞানী জানান, বাংলাদেশের আগে এমন মিউটেশনের খবর রাশিয়া এবং পেরুতে পাওয়া যায়। ওই দেশগুলোতে একটি করে নমুনায় এমন মিউটেশন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে মোট ১৭টি নমুনার মধ্যে ৫টিতেই এমন মিউটেশন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সেলিম খান বলেন, আগারগাঁয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে ওই নমুনাগুলো জেনোম সিকোয়েন্সের জন্য নিয়েছিলেন তারা। তবে কাদের কাছ থেকে এই নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করতে নমুনার তথ্য এরই মধ্যে ওই সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিসিএসআইআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।