নতুন বছরের লিভারপুলের হার দিয়ে শুরু

           নতুন বছরের শুরুটা আরও খারাপ হলো লিভারপুলের। বিগত বছরের শেষটা মনঃপুত ছিল না ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের। শেষ দুই ম্যাচে তারা পায়নি জয়ের দেখা, ড্র করেছিল ওয়েস্ট ব্রম ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে। যা শঙ্কার মুখে ফেলে দিয়েছিল তাদের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান। যেখানে তারা সাউদাম্পটনের কাছে হেরে গেছে ০-১ ব্যবধানে।সাউথ্যাম্পটনের একমাত্র গোলটি করেন লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড ড্যানি ইঙ্গস। প্রিমিয়ার লিগে দলটির বিপক্ষে টানা ছয় জয়ের পর লিভারপুল হারের তেতো স্বাদ পেল । গত রাউন্ডে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোলশূন্য এবং এর আগে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল অল রেড নামে পরিচিত দলটি।
       ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে ফ্রি-কিক পায় সাউদাম্পটন। জেমস ওয়ার্ড প্রাউসের নেয়া ফ্রি-কিকটি খুব একটা ভয়ের কারণ ছিল না। কিন্তু ক্লিয়ার করতে পারেননি ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ড। সুযোগে বল পেয়ে প্রথমবারেই জালের ঠিকানা খুঁজে নেন লিভারপুলেরই সাবেক ফরোয়ার্ড ড্যানি ইঙ্গস।প্রিমিয়ার লিগে এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের এটি ৫০তম গোল। আবার তারই ঠিক কিছু সময় পর পঞ্চম মিনিটে প্রথম সুযোগটি তৈরি করে সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে আগের ছয় লিগ ম্যাচে ১৭ বার বল জালে পাঠানো লিভারপুল।  রবের্তো ফিরমিনো ডান দিক থেকে মোহামেদ সালাহর পাস ঠিকই  ডি-বক্সে খুঁজে পায় । কিন্তু ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড ভুলবশত বল বাইরে মেরে হতাশা  করে ফেলেন।
       সফরকারীরা কিন্তু  একাদশ মিনিটের সময় খেলা  সমতায় ফিরিয়ে আনতে পারতো ।কিন্তু ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার-পিটার্স অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের ক্রসে সাদিও মানের হেডটি ফিরিয়ে দেন। আবার বিরতির আগে সালাহ সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি । বাঁ দিক থেকে মানের ক্রসে ছয় গজ বক্সের সামনে থেকে মিশরের এই ফরোয়ার্ডের হেডটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায় ।লিভারপুল প্রথমার্ধে গোলের উদ্দেশে মোট ছয়টি শট নিলেও  একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে  অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে  চ্যাম্পিয়নরা একের পর এক পালটা  আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে  । ৫৭তম মিনিটে কাছ থেকে মানের নেওয়া শট ব্লক করেন ডিফেন্ডার জ্যাক স্টিভেন্স। তবে লিভারপুল ৭৫ তম মিনিটের সময় মানের একটি শট নিলেও তারা প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকে বশে আনতে পারেনি। গোলরক্ষক সহজে  ঠিকই বলটি ধরে ফেলেন।
       ফরোয়ার্ড লাইনের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি লিভারপুলের। উল্টো শেষের দিকে  আরেকটি গোল খেতে বসেছিল তারা। গোলরক্ষক অ্যালিসনকে ফাঁকি দিয়ে বল যাচ্ছিল জালের দিকে। শেষমুহূতে ঠিক গোললাইন থেকে সেটি ফিরিয়ে দেন জর্ডান হেন্ডারসন।আর যোগ করা সময়ে কর্নারে মানের হেড উড়ে গেলে আসরে দ্বিতীয়বারের মতো হারের হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় চ্যাম্পিয়নদের।  ফলে পরাজয়ের ব্যবধান আর বাড়েনি চ্যাম্পিয়নদের। অবশ্য এ হারের পরেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে লিভারপুল। ১৭ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট তাদের। আর এদিকে এক ম্যাচ কম খেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরও রয়েছে ৩৩ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এক নম্বরে অবস্থান লিভারপুলের।১৭ ম্যাচে আট জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থান উঠে এসেছে সাউথ্যাম্পটন।