তৃতীয় বার ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস

    বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ৩-১ গোলে জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। শুরু থেকে বসুন্ধরা কিংস আক্রমণাত্মক গোলের সুযোগ পেলেও বঞ্চিত হচ্ছিল। ১২ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান রবসন দি সিলভা রবিনিয়োর ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট গোল পোস্ট লেগে ফিরে আসে। আবার ৫ মিনিট পর ইরানের ডিফেন্ডার খালেদ শাফিইয়ের কাটব্যাকে আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত চিলিয়ান ফরোয়ার্ড বেসেরার শট শহিদুল আলম সোহেল ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান।
    রক্ষণ ভাগের সামলে খেলতে থাকা আবাহনী প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ করে ২০মিনিটে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তো সান্তোস দা সিলভার ফ্রি কিকে কেরভেন্স ফিলস বেলফোর্টের হেড তালুবন্দি করেন আনিসুর রহমান জিকো। ৩ মিনিট পর সিলভার পাস ধরে আফগানিস্তানের ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানির শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৩০ মিনিটে পর বিশ্বনাথ ঘোষের শটও উড়ে যায় একইভাবে। এভাবে  হতাশা বাড়তে থাকে সর্বশেষ ২০১৮ সালে ফেডারেশন কাপ জেতা আবাহনীর।
    ৩১ মিনিটে এগিয়ে যায় আবাহনী। ডান দিক দিয়ে বেলফোর্টের থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ দে সৌজা ফিলহো কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন। ৪৫ মিনিটের শেষ দিকে রাফায়েলের লব বুক দিয়ে নামিয়ে ফিলহোর জোরালো শট জিকো ফেরালে দ্বিগুণ হয়নি ব্যবধান। ৫১ মিনিটে সমতার স্বস্তি ফিরে বসুন্ধরা কিংস। রানার পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে এক জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোনাথন দি সিলভেইরার ডান পায়ের শট ক্রসবারের ভেতরের কানায় লেগে গোললাইন পেরিয়ে ড্রপ খেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তখন আবার বেসেরা হেডে বল গোল লাইনের দেখা পায়। অবশ্য বল আগেই গোললাইন পেরুনোয় গোল পেয়েছেন জোনাথনই।
    দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নিতে দেরি করায় সুযোগ নষ্ট করেন কিংসের রবিনিয়ো। এরপর ডান দিক থেকে আবাহনীর ফিলহোর ক্রসে বেলফোর্টের হেড বাইরের জাল কাঁপায়। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই সতীর্থের লম্বা ক্রসে বেসেরার হেড পাস গোলমুখে থাকা জোনাথন বুক দিয়ে নামিয়ে শট নেওয়ার আগেই আবাহনীকে বিপদমুক্ত করেন নাসির উদ্দিন। ১০৯ মিনিটে জোনাথনের বাড়ানো বল ধরে মতিন মিয়া ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান ছোট ডি-বক্সে। প্রথম ছোঁয়ায় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঠাণ্ডা মাথার শটে বসুন্ধরাকে এগিয়ে নেন বেসেরা।
     শেষ দিকে ফিলহো কাঁধ দিয়ে বল নামিয়ে দেওয়ার পর নাবিব নেওয়াজ জীবন হাঁটুর টোকায় জাল খুঁজে পেলেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। লাইন্সম্যানকে জেঁকে ধরেন আবাহনীর খেলোয়াড়রা। ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে খেলার মাঠে। মিনিট দশেক বন্ধ থাকে। পরে আবাহনীর স্টাফ, কর্মকর্তারা শান্ত করেন দলকে।  যোগ করা সময়ে রবিনিয়োর ছোট পাস ধরে জোনাথন জাল খুঁজে নিলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় বসুন্ধরা কিংস। একটু পরই শেষের বাঁশি বাজলে ফাইনালে ওঠার উৎসবে মাতে ব্রুসনের দল বসুন্ধরা কিংস।