তাহলে কি যুদ্ধে বিজয়ী আজারবাইজানই হচ্ছে !

দক্ষিণ ককেশীয় অঞ্চলের দুটি দেশ আর্মেনিয়া-আজারবাইজান কয়েক  দশক আগেও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল । স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জরিয়ে পরে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গত তিনদশক ধরে চলা এই সংঘাতে প্রাণ গেছে অন্তত কয়েক হাজার সামরিক­-বেসামরিক নাগরিকের। দীর্ঘ দিনের এই স্নায়ুযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে সম্মুখ যুদ্ধে রুপ নিয়েছে। যা এই সংকটকে আরও বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুসলিম অধ্যুশিত আজারবাইজানকে জাতিগত ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে তুরস্ক। তুরস্ক ও আজারবাইজানকে বলা হয় জাতিভাই। তাছাড়া তুরস্ক ও আজারবাইজানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অপরদিকে রাশিয়া খ্রিষ্টান অধ্যুশিত আর্মেনিয়াকে পূর্বে পুরো সমর্থন করলেও বর্তমানে করোনা মহামারী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে প্রত্যক্ষভাবে কিছুই বলছে না।

স্বাধীনতার পর বহু সময় কেটে গেছে। সামরিক­-বেসামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের জন্য অনেকটাই সামর্থ্য অর্জন করেছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। সামরিক শক্তির দিক দিয়ে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছে মুসলিম অধ্যুশিত দেশটি। দেশটি সামরিক­ বাজেটের কয়েকগুণ বেশি খরচ করে সামরিক­ খাতে, যার পরিমাণ প্রায় ২৭৩ কোটি মার্কিন ডলার। অপরদিকে আর্মেনিয়া এ খাতে ব্যয় করে মাত্র ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। আজারবাইজানের ৬৭ হাজার সেনার বিপরীতে আর্মেনিয়ার সেনা আছে ৪৫ হাজার। আজারবাইজানের সাজোঁয়া যান আছে ১৬৩৭টি, ট্যাংক ৬৬৫টি, জেট-ফাইটার ১২৭টি, হেলিকপ্টার ৭৫টি। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার দিকে তাকালে এর পরিসংখ্যান প্রায় অর্ধেক। আর্মেনিয়ার সাজোঁয়া যান আছে ১০০০টি, ট্যাংক ৫২০টি, জেট-ফাইটার ৬২টি, হেলিকপ্টার ৪১টি। কাস্পিয়ান সাগরে আজারবাইজানের ৩১টি সামরিক নৌযান থাকলেও আর্মেনিয়ার ক্ষেত্রে এর সংখ্যা শূন্য়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.