টিকে থাকার লক্ষ্যে বুধবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা

চলতি বিশ্বকাপে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার এটি হবে ষষ্ঠ ম্যাচ। বিশ্বকাপের গত আসরের সেমিফাইনালে কিউইদের কাছে হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল প্রোটিয়াদের। তাই গতবারের প্রতিশোধ তথা এবারের টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।

পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে ফাফ ডু প্লেসিসের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকার। নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে পরাজিত হয় তারা। একমাত্র আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে প্রোটিয়ারা। পক্ষান্তরে নিউজিল্যান্ড নক আউট পর্বে নাম লেখাতে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। কেন উইলিয়ামসন এ পর্যন্ত দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং চলতি ২০১৯ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তারা কোনো ম্যাচে হারেনি।মাঠের খারাপ পারফরমেন্স ছাড়াও বেশ কয়েকটি ইনজুরির সাথে লড়াই করতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ইনজুরির কারণে তাদের সেরা পেসার ডেল স্টেইন ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আরেক পেসার লুঙ্গি এনগিডিও ইনজুরির কারণে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি।

তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগ মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সুখবর হচ্ছে এনগিডিকে পুরোপুরি ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবারের ম্যাচে খেলবেন তিনি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের পর ডু প্লেসিস বলেন,‘ আশা করছি দলের প্রত্যেকের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এটা সত্যিই সহায়ক হবে। সকলেই বুঝতে পারছে তাদের ওপর চাপ কতটা বেড়ে গেছে। এখন সামনের সব ম্যাচই আমাদের জিততে হবে।’
বিশ্বকাপ আশা টিকিয়ে রাখতে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের জ্বলে উঠতে হবে।

এজবাস্টনের টার্নিং উইকেটে দলটির অনেক কিছুই নির্ভর করবে অভিজ্ঞ স্পিনার ইমরান তাহিরের ওপর। আফগানিস্তানকে ধ্বংস করে দেয়ার আগে ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রোটিয়ারা যতটুকুই করেছে তাতে বেশি অবদান রেখেছে ব্যাটিং লাইনআপ। মূলত আগের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জ্বলে উঠেছেন ওপেনার হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক।

এ জুটি ছাড়াও ডু প্লেসিসকে সামাল দিতে হবে নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টের নেতৃত্বাধীন পেস আক্রমনকে।

তবে স্পিনের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের দুর্বলতার রেকর্ড এবং এজবাস্টনের উইকেট বিবেচনায় কিউইরা লেগ স্পিনার ইশ সোধির সঙ্গে নির্ভরযোগ্য মিচেল স্যান্টনারকে সেরা একাদশে বিবেচনা করতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের রয়েছে নিখাদ ব্যাটিং ইউনিট। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলকে টেনে তুলে জয় পেতে বড় ভুমিকা রেখেছেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। এছাড়া রস টেইলরও রানের মধ্যে আছেন। তবে দুই ওপেনার কলিন মুনরো এবং মার্টিন গাপটিলের জ্বলে ওঠা প্রত্যাশা করবে দল।

এ ছাড়াও দলটিতে আছেন দুই ধ্বংসাত্মক অলরাউন্ডার জিমি নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম।