চ্যালেঞ্জ করে জিতল রিয়াল মাদ্রিদ

মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের আলো ছড়ানো পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা খেই হারাল রিয়াল মাদ্রিদ। পাল্টা আক্রমণে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাল এইবার। অনেক সুযোগ নষ্টের পরও করিম বেনজেমার নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের দুই গোলে অবদান রাখেন বেনজেমা। বেনজেমার গোলে রিয়াল এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান লুকা মদ্রিচ। কিকে গার্সিয়া ব্যবধান কমানোর পর জমে ওঠে লড়াই। শেষ দিকে জয় নিশ্চিত করেন লুকাস ভাসকেস।

ম্যাচের অধিকাংশ সময় রিয়াল বলের দখলে থাকলেও আক্রমণে দু’দল ছিল সমান-সমান। ‘অফ দা বল’-এ এইবারের আগ্রাসী রূপ প্রশংসনীয়। অন্যদিকে, রিয়ালের আক্রমণভাগ ভীতি ছড়ালেও তাদের রক্ষণ ছিল না সেরা রূপে। তবে শুরু থেকেই চড়াও অতিথিরা। ম্যাচের ৬ মিনিটেই আসে ফল। চর্মগোলকটা যে কেবল শক্তি প্রদর্শনীর খেলা নয় তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বেনজেমা। রদ্রিগোর পাসটা আলতো টোকায় গোলরক্ষকের দু’পায়ের মাঝ বরাবর রাস্তাটা চিনিয়ে দিলেন। বলটা নির্বিঘ্নে পৌঁছে গেলো গন্তব্যে। আসরের সপ্তম গোল আদায় করলেন এই ফরাসি। সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ চার ম্যাচে তার গোল হলো পাঁচটি।
ঘরের মাঠে আসরে এখন পর্যন্ত জয়শূন্য এইবারের বিপক্ষে শুরুটা দুর্দান্ত করে রিয়াল। ১৩ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে তারা।পরের মিনিটেই দ্বিগুণ হতে পারতো মাদ্রিদিস্তানদের ব্যবধান। তবে ভাসকুয়েজের সাইড ভলিটা দারুণ ক্ষিপ্ততায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক দিমিত্রোভিচ। তবে ১৩ মিনিটে আর পারেননি। বেনজেমার কাটব্যাক থেকে মদ্রিচের শটটা যদিও হাতে লেগেছিল। কিন্তু তা যথেষ্ট হয়নি।

দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও দুটো বেমানান ভুল করেছেন বেনজেমা। ১৬ মিনিটে নিজের জোড়া পূরণের সহজ সুযোগ পেয়েও বাড়িয়ে দিয়েছেন মদ্রিচকে। আর ২৬ মিনিটে ক্রসবারের সামনে লুকার উড়িয়ে দেয়া বলটায় করেছেন লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডার। এরপরেই যেনো টনক নড়ে আসরে ঘরের মাঠে এখনও জয় না পাওয়া এইবারের। বল দখলের লড়াইয়ে মাদ্রিদ জায়ান্টরা এগিয়ে থাকলেও মেনদিলিবার শিষ্যদের লড়াকু মনোভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। চাপের মুখে ২৮ মিনিটে খেই হারায় রিয়ালের রক্ষণ। দূরপাল্লার শট পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ান কিকে গার্সিয়া। আক্রমণ-পালটা আক্রমণ চললেও ২-১ স্কোরলাইনে বাজে বিরতির বাঁশি।

দ্বিতীয়ার্ধের একাদশ মিনিটে সের্হিও রামোসের ভুলে বিপদে পড়তে পারতো রিয়াল। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি এইবার। ৭১তম মিনিটে ইয়োশিনোরি মুতোর হেড ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আবারও বেঁচে যায় রিয়াল। এর মাঝে গোলরক্ষককে একা পেয়ে তার বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন রদ্রিগো। ৮১তম মিনিটে ডি-বক্সে রামোসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে এইবার। শরীর থেকে তার হাতও দূরে ছিল; তবে ভিএআরে সাড়া মেলেনি। শেষ ১০ মিনিটে চাপ বাড়ানো এইবার যোগ করা সময়ে গোল পেতে পারতো। তবে ডি-বক্সে বিগাসের শট স্লাইড করে বিদমুক্ত করেন রামোস।ওখান থেকে ওঠা প্রতি-আক্রমণে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ভাসকেস। বেনজেমার পাস পেয়ে ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। সব প্রতিযোগিতা মিলে রিয়ালের এটি টানা পঞ্চম জয়।