কোভিড-১৯ লাতিন আমেরিকার তিনটি দেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু

প্রানঘাতি কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সারিতে প্রথমে থাকা লাতিন আমেরিকার তিনটি দেশে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। করোনায় মৃত্যুর হারে শীর্ষ দেশ মেক্সিকো। কোভিড-১৯ এ মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের পরপরই দেশটির অবস্থান। মেক্সিকোতে ১৩ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কোভিড মোকাবিলায় মেক্সিকো সরকার সম্মুখসারিতে থাকা সব স্বাস্থ্যকর্মীকে আগামী মার্চের মধ্যে টিকার আওতায় আনতে চায়। মেক্সিকোতে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রধান নার্সকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার প্রথম ডোজ দিয়ে।

বিবিসি বলছে, লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ আর্জেটিনায় রাশিয়ার উদ্ভাবিত কোভিড ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক-ভি’ জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা। ইতিমধ্যে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্স-এ স্পুটনিক-ভি’র ৩ লাখ ডোজের প্রথম চালান আর্জেটিনায় এসে পৌঁছেছে। লাতিনে কোভিড-১৯ এ সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখা ব্রাজিলে মধ্য ফেব্রুয়ারির আগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে না। দেশটিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংক্রমণের ফের ঊর্ধ্বগতিও দেখা যাচ্ছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো বলেছেন, তিনি টিকা না নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বছরের প্রথম ভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে- এমনটাই ধারণা করছেন তিনি।

দেশটি ফাইজারের টিকার যে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কিনেছে, তার মধ্যে প্রথম চালানে বুধবার বেলজিয়াম থেকে এসেছে মাত্র ৩ হাজার ডোজ। বেলজিয়ামেই টিকাগুলো বানানো হয়েছে। মেক্সিকোর কিছু সময় পরেই চিলি ও কোস্টারিকায়ও ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হয়।

মেক্সিকোর সরকার জানিয়েছে, তারা ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া সব স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দিতে চায়। দেশটিতে এর মধ্যেই ১৩ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে; মৃত্যু ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। চিলিতে শনাক্ত রোগী ৬ লাখ ছুঁইছুঁই, মৃত্যু ১৬ হাজার ৩০০, কোস্টারিকায় এখন পর্যন্ত রোগী মিলেছে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার; মৃত্যু ২ হাজারের সামান্য বেশি। আর আর্জেন্টিনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ লাখের কাছাকাছি; মৃত্যু ছাড়িয়ে গেছে ৪২ হাজার ৩০০।