ইয়াসির-মুশফিকের ব্যাটে ঢাকার লড়ার রান

বিপর্যয়ে আবারও ঢাকার ত্রাতা ইয়াসির আলি চৌধুরি। বাজে শুরুর পর মুশফিকুর রহিমও অবদান রাখলেন রানের গতি বাড়াতে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকার ম্যাচে শুরুর অস্বস্তি ঝেরে ঢাকা তুলতে পারল লড়াইয়ের মতো রান।  বরিশালের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া ঢাকাকে পথ দেখান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বাঁচামরার লড়াইয়ের ম্যাচে ৬ রানে ২ উইকেট হারানো ঢাকা, ২২ রানে হারায় তৃতীয় উইকেট।

দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে খেলায় ফেরান মুশফিক।তার ব্যাটে ভর করেই প্রাথমিক বিপর্যয় এড়ায় ঢাকা।  বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের এলিমিনেটর ম্যাচে সোমবার ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে বেক্সিমকো ঢাকার রান ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫০। আসরে বেশ কবারই দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা ইয়াসির এবার খেলেন ৪৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। মুশফিক করেন ৩০ বলে ৪৩।
বরিশালের হয়ে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪ ওভারে ২২ রানে মিরাজের শিকার ২ উইকেট। তাসকিনের প্রথম স্পেল ছিল ৩-০-৯-১। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিংয়ে নেমে বরিশাল শুরুতে চেপে ধরে ঢাকাকে। তাসকিন প্রথম ওভারে দেন ২ রান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই সাফল্য পান বরিশালের মেহেদী হাসান মিরাজ। এ অফ স্পিনারে বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওপেনার নাঈম শেখ। আগের ম্যাচে এই বরিশালের বিপক্ষেই ৬৪ বলে ১০৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জেতাতে পারেননি জাতীয় দলের এ ওপেনার। সোমবার ফেরেন ১১ বলে মাত্র ৫ রান করে।

নাঈমের বিদায়ের পর তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিনের করা প্রথম ওভারের প্রথম বল ডট দেন আল-আমিন।দ্বিতীয় বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় ৬ রানে নাঈম শেখ ও আল-আমিনের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ঢাকা। সোহরাওয়ার্দী শুভকে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে শেষ হয় সাব্বির রহমানের অস্বস্তিময় ইনিংস (১৪ বলে ৮)।পাওয়ার প্লে শেষে ঢাকার রান ছিল ৩ উইকেটে ২৪।ঢাকার বিপদ আরও ঘনীভূত হতে পারত একটু পর। মিরাজের বল ওয়াইড লং অফে তুলে দেন মুশফিক, হাত ছুঁইয়েও তালুবন্দি করতে পারেননি সুমন খান।অবশেষে মুশফিকুর রহমান ১৪ রানে জীবন পেয়ে  রানের গতি  বাড়ান। ইয়াসির আলি তাকে দিয়ে যান সঙ্গ।অতি আগ্রাসী হতে গিয়েই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন মুশফিক। অবশেষে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে স্কুপ করে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই দৃষ্টিকটু স্লগ শটে ধরা পড়েন কামরুলের হাতেই।মুশফিকের বিদায়েও  ঢাকার রানের গতি কমাতে পারেনি । কামরুলকে দারুণ শটে ছক্কা মারেন ইয়াসির, ওই ওভারেই আকবর আলির ব্যাট থেকে আসে ছক্কা ও চার।

৯ বলে ২১ রানের দারুণ ক্যামিও খেলে আকবর বিদায় নেওয়ার পর রান বাড়ানোর দায়িত্ব নেন ইয়াসির। এক পর্যায়ে ৩০ বলে ২৮ রান ছিল তার। শেষ দিকে পরপর দুই বলে ছক্কা-চার মারেন সুমন খানকে, তাসকিনকে টানা দুটি চার। ইয়াসিন-আকবদের সৌজন্যে শেষ ৬ ওভারে ঢাকা তুলতে পারে ৬৫।ঢাকা-বরিশালের মধ্যকার এই ম্যাচে যারা হেরে যাবে, তাদের বিদায় নিশ্চিত। আর যারা জিতবে তারা প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচের (চট্টগ্রাম-খুলনা) হেরে যাওয়া দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মঙ্গলবার সাড়ে ৪টায় মুখোমুখি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.