পেঁয়াজের দাম কমেনি,আসছে বড় চালান

বাজারে পেঁয়াজের দাম সাধারন ক্রেতাদের ধরাছোয়ার বাইরে । যার ফলে সাধারন জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, মিসর ও তুরস্ক থেকে দু-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বড় একটি চালান দেশে এসে পৌঁছাবে।
এছাড়া নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ বাজারে নতুন পেঁয়াজ চলে আসবে। এর ফলে পেঁয়াজের দাম অনেকাংশেই কমে যাবে ।

মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত সারা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের মাধ্যমে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পেঁয়াজ বিক্রয় করা হচ্ছে । ফলে সাধারন ক্রেতারা খুবসহজেই ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। স্থল ও নৌ বন্দরগুলো থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছে ।

পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে সুদের হার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে পেঁয়াজ আমদানিকারকদের জন্য এলসি মার্জিনও অনেকাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজ দ্রুত পৌঁছানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি টিম প্রতিদিন ঢাকা শহরের বাজারগুলো সার্বক্ষনিক মনিটরিং করে যাচ্ছে। ঢাকার বড় বড় পাইকারি বাজারগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিদিনই বাজারে পেঁয়াজ আসছে ,সেই সাথে বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে । দু-একদিনের মধ্যে আরোও বড় আমদানির চালান দেশে পৌঁছাবে। ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, পেঁয়াজের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে ; এমটাই বলছে মন্ত্রনালয় ।মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানানো হয়, পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সাথে বহুবার মিটিং করেছে , প্রতিনিয়তই আমদানিকারকদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি এবং নৈতিকতার সাথে ব্যবসা করতে বলা হয়েছে । যদি কোনো ব্যবসায়ী এই আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে পেঁয়াজ মজুত করে অথবা পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে তাহলে, তাদের বিরোদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বন্যার ফলে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের সর্বনিম্ন দাম ৮৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেয় দেশটি । পরবর্তিতে ভারত কর্তৃপক্ষ ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে দেয় । দাম কম ও সহজ পরিবহনের জন্যে বাংলাদেশে সচরাচর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।
বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। তবে সম্প্রতি মিয়ানমারও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।